হিন্দু আইন সংশোধন

হিন্দু আইন সংশোধন নিয়ে বিতর্ক কেন?

হিন্দু আইনঃ

হিন্দু আইন সংশোধনের বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে বিতর্ক চলে আসছে। হিন্দু আইন অনুযায়ী হিন্দু নারীরা পিতার সম্পত্তির অধিকার লাভ করে না। মূলত পিতার সম্পত্তিতে নারীর সম্পত্তির অধিকার, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, বিবাহ বিচ্ছেদ এর মত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্টতা তৈরি করার জন্য হিন্দু আইন সংশোধন করার প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন।

হিন্দু আইন সংশোধন করা কেন প্রয়োজনঃ

হিন্দু আইন সংশোধনের সভাপতি অধ্যাপক . ময়না তালুকদার এর মতে বর্তমান আধুনিক পৃথিবীতে নারী পুরুষ সকলেই সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্য। হিন্দু পুরুষরা যদি পিতার সম্পত্তিতে অধিকার পায় তাহলে নারীরা কেন পাবে না এই প্রশ্ন তিনি উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিক পুলক ঘটক এবং কিছু এনজিও হিন্দু আইন সংশোধনের কমিটির পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন।

হিন্দু আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই কেনঃ

অন্যদিকে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকসহ বেশিরভাগ হিন্দু নেতার দাবি এই আইন সংশোধন হলে নারীরা সম্পত্তির অধিকার পাবে ঠিকই কিন্তু ব্যাপক হারে হিন্দু নারীরা সম্পত্তির কারণে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার, বিবাহ বিচ্ছেদ, বহুবিবাহ, ভাই বোনদের মধ্যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা মোকদ্দমা বেড়ে যাবে।

তিনি আরো দাবি করেন সুষ্ঠু পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হিন্দু নারী পুরুষ জীবন যাপন করছে।বর্তমানে হিন্দুদের মধ্যে যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বিবাহ বিচ্ছেদ, বহুবিবাহ, হিন্দু মহিলা ভিক্ষুক, হিন্দু এতিম শিশু একেবারেই নেই। হিন্দু আইন সংশোধন করা হলে হিন্দুদের পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, হিন্দু নারীদের উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি হবে।

তিনি আরো বলেন হিন্দু নারীরা যে সকল সুবিধা মুক্ত স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ পায় অন্যন্য ধর্মাবলম্বী নারীদের সে সুযোগ নেই। হিন্দু নারীরা পিতার সংসারে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠে বিয়ের পর তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার স্বামী গ্রহণ করে।

তাছাড়া হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীতে যেখানে কাগজপত্র আইন আদালত করার পরও বিবাহ বিচ্ছেদ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না সেখানে কোন রকম কাগজপত্র ছাড়া সুন্দর পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিয়ে করে হিন্দু নারী পুরুষ সুন্দর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছে। সেখানে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন বাধ্যতামূলক করার কোন প্রয়োজন নেই। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বিষয়টি অন্য ধর্মের সংস্কৃতি হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র মাত্র।

তিনি মনে করেন,কোন অপরাধ যখন ব্যাপক হারে বেড়ে যায় তখন প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে নতুন আইন পাশ করা বা পুরাতন আইন সংশোধন করা হয়। বর্তমানে এমন কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি যার কারণে হিন্দু আইন সংশোধন করা প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়া হিন্দু সুরক্ষা আইন, হিন্দুদের জন্য আলাদা মন্ত্রনালয় গঠন, হিন্দুদের জন্য সংসদে আলাদা আসন সংখ্যা রাখা হিন্দুদের মূল দাবি থাকা সত্ত্বেও একটি বিতর্কিত বিষয় আলোচনায় নিয়ে আসা হিন্দুদের বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করা ষড়যন্ত্র বলে তিনি মনে করেন।

সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী মনে করেন বর্তমান সময়ে হিন্দুদের মূল দাবিগুলো যাহাতে সামনে আনতে না পারে, হিন্দু নেতারা যাহাতে একহতে না পারে তার জন্য হিন্দু আইন সংশোধনের মত বিতর্কিত বিষয়গুলো কৌশলে সামনে আনা হচ্ছে। বিগত ০২-০৬-২৩ খ্রিঃ হিন্দু আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে ৪০ টি হিন্দু সংগঠন শাহবাগে মশাল জ্বালিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে এবং সমগ্র বাংলাদেশ সকল জেলা উপজেলায় হিন্দু আইন সংশোধনের বিপক্ষে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে।


Comment As:

Comment (0)