সিলেটের জাফলং যাবেন, জাফলং ভ্রমণ ও সতর্কতা।

সিলেটের জাফলংঃ

সিলেট বিভাগের গোয়াইনঘাট থানাধীন জাফলং একটি অন্যতম পর্যটন স্থান। জাফলং ট্যুরিং স্পট বছরের বেশিরভাগ সময়ই দেশি বিদেশি পর্যটকে মুখর থাকে।সিলেটের জাফলং যাবেন, জাফলং ভ্রমণ সতর্কতা সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন পাহাড়, চা বাগান, ঝর্ণা, নদীনালা, বনভূমি, প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে সিলেট সব সময়ই পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয়। তাছাড়া ঘুরে বেড়ানোর মত মনোরম পরিবেশ সুন্দর  নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সিলেটের জাফলং পর্যটকদের নিকট দিন দিন আরো জনপ্রিয় হচ্ছে। সিলেটের জাফলং যাবেন, জাফলং ভ্রমণ সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া আপনি কিভাবে একদিনে  জাফলংসহ ০৮ টি জায়গা ভ্রমণ সতর্কতা সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

সিলেটের জাফলং কিভাবে যাবেনঃ

সিলেট শহরের সোবাহানীঘাট, বন্দরবাজার কদমতলী বাস টার্মিনাল হতে সহজেই লোকাল বাস, সিএনজি অথবা মাক্রোবাসে জাফলং যেতে পারবেন। তবে আপনারা যেহেতু ঘুরতে যাবেন তাই সিএনজি অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে জাফলং গেলে ভালো হয়। সিএনজি ভাড়া সাধারণ ১২০০-১৫০০ টাকা, মাইক্রোসবাস ৫০০০-৬০০০ টাকা নিতে পারে। লোকাল বাসে করে গেলে যাওয়া আসার সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালো করে দেখতে পারবেন না।

সিলেটের জাফলং যাবেন, জাফলং ভ্রমণ সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিতঃ

ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের প্রধান উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। সিলেট শহরের জাফলং ভ্রমণের জন্য গেলে আপনারা সহজেই কিছু পর্যটন স্থান যেমন শাহ জালালের দরগাহ, শাহ পরাণ মাজার, হরিপুর আগুন টিলা, সারিঘাট লালাখাল, জৈন্তাপুর ডিবির হাওর, তামাবিল জিরো পয়েন্ট জাফলং একই দিনে একই খরচে দেখতে পারবেন।

শাহ জালাল দরগাহঃ

আপনারা যদি অন্যন্য বিভাগ থেকে সিলেট বেড়াতে আসেন তাহলে কদমতলী বাস টার্মিনাল, সিলেট আপনাদের গাড়ি থামবে। এখান থেকেই ভ্রমনের জন্য যে কোন গাড়ি ভাড়া করতে পারবেন। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে বন্দরবাজার থেকে জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্রায় অবস্থিত শাহ জালাল দরগাহ যেতে পারেন। শাহজালাল দরগাহ ইসলামের ধর্মীয় দিক দিয়ে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ধারণা করা হয় এখান থেকে সমগ্র সিলেটে ইসলাম প্রসার লাভ করে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন প্রচুর লোক মাজার জিয়ারত দর্শন করতে আসে। এখানে আপনারা প্রচুর জালালি কবুতর, মাজারের পুকুরে বড় বড় শৌল মাছ আরেকটি পুকুরে সোনালী মাছ দেখতে পারবেন।

শাহপরাণ মাজারঃ

সিলেট হতে জাফলংয়ে যাওয়ার পথে প্রথমেই শাহ পরাণ মাজার রয়েছে। সিলেট শহর হতে যার দূরত্ব কি. মি. শাহজালাল এর অন্যতম সঙ্গী  শাহ পরাণ। প্রতিদিন প্রচর লোক উনার  উনার মাজারত জিয়ারত দর্শন করতে আসে। জাফলং ভ্রমণের জন্য গেলে পথিমধ্যে শাহ পরাণ মাজার দর্শন করে শুরু করতে পারেন।

হরিপুর আগুন পাহাড়ঃ

সিলেট শহর হতে শাহপরাণ মাজার হয়ে জাফলংয়ের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলে শাহ পরাণ মাজারের পরে হরিপুর আগুন পাহাড়। যা সিলেট শহর হতে ২৪/২৫ কি. মি. দূরে অবস্থিত। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে পাহাড়ে  আগুন জ্বলে উঠে, বিষয়টি উপভোগ করতে পারবেন। স্থানটি পর্যটকদের কাছে মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ। জাফলংয়ে যেতে যেহেতু রাস্তার পাশে তাই সহজেই ভ্রমণ করতে পারেন।

সারিঘাট লালাখালঃ

হরিপুর আগুন পাহাড় ভ্রমণ শেষে জাফলং যাওয়ার পথে সারিঘাট বাজার পড়বে। সারিঘাট বাজার হইতে নৌকা ভাড়া নিয়ে লালাখাল ভ্রমণ করতে পারেন। সিলেট হইতে দূরত্ব ৩৫ কি. মি। লালাখাল নৌকা ভ্রমণ সময় / ঘন্টা ১৬০০/১৭০০ টাকা নিতে পারে। তাছাড়া সারিঘাট বাজার হইতে একটু সামনে সারিঘাট উত্তর গিয়ে কম টাকায় নৌকা ভাড়া নিতে পারবেন। লালাখাল ভ্রমণে সবুজ স্বচ্ছ জল, চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চা বাগান দেখা সত্যি ভালো লাগে। লালাখালে অপরুপ  সৌন্দর্য উপভোগ করতে  হলে শীতকালে ভ্রমন করা ভালো।

জৈন্তাপুর ডিবির হাওরঃ

সারিঘাট লালাখাল ভ্রমণ শেষে জাফলং যাওয়ার পথে জৈন্তাপুর বাজার কাছাকাছি পড়বে ডিবির হাওর বা লাল শাপলার বিল। প্রধান রাস্তা থেকে হেটে /১০ মিনেটে ডিবির হাওর বা লাল শাপলা বিলে যেতে পারেন। বিলে লাল শাপলা দূর পাহাড়ের সৌন্দর্য খুবই আকর্ষণীয়।  বছরের সেপ্টেম্বর হইতে জানুয়ারি মাস সকাল বেলা শাপলার বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রশংসনীয়।

শ্রীপুর চা বাগানঃ

সিলেট হইতে জাফলং যাওয়ার কাছাকাছি তামাবিল বাজারে পড়বে শ্রীপুর চা বাগান। শ্রীপুর চা বাগানের পরিবেশ খুব ভালো লাগে। এখান থেকে ভারতে মেঘালয় পাহাড়ের গায়ে প্রচুর ঝরনা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

তামাবিল জিরো পয়েন্টঃ

তামাবিল বাজার হইতে একটু সামনে তামাবিল জিরো পয়েন্ট। এটা মূলত ভারতের  সাথে বাংলাদেশের স্থল বন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্ট। উভয় দেশের মানুষ আশা যাওয়া পণ্য বিশেষ করে কয়লা আনা নেওয়া হয়।

জাফলং ট্যুরিং স্পটঃ

তামাবিল জিরো পয়েন্ট থেকে কিলোমিটার দূরে সিলেটের অন্যতম ট্যুরিং স্পট জাফলং অবস্থিত। তামাবিল জিরো পয়েন্ট থেকে গাড়ি যোগে মামার বাজার হয়ে জাফলং যাওয়া যায়। তবে জিরো পয়েন্ট থেকে পায়ে হেটে ভারত সীমান্ত ঘেষে জাফলং যেতে খুব ভালো লাগবে। এক্ষেত্রে  ২০/৩০ মিনিট সময় লাগবে। জাফলং ট্যুরিং স্পটে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। জাফলং জিরো পয়েন্ট পর্যটনের মূল স্পট।  জাফলং জিরো পয়েন্টে ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, ডাউকি ব্রীজ, জাফলং জিরো পয়েন্ট কাচের মত স্বচ্ছ পানি, সাদা পাথর পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।  তাছাড়া জাফলং জিরো পয়েন্ট হতে ১০ মিনেটে দূরত্বে সংগ্রামপুঞ্জি ঝরণা সংগ্রাম পুঞ্জি চা বাগান খাসিয়া পল্লীর রাজবাড়ী পান বাগান দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।

বিঃদ্রঃ একদিনে সকল জায়গা দেখতে গেলে খুব সকালে রওনা দিতে হবে। সিএনজি, লেগুনা, বাস অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া নিতে হবে। সিলেট থেকে জাফলং গাড়ি ভাড়া নিলে পথিমধ্যে উল্লেখ্য সকল পর্যটন স্পষ্ট ঘুরতে পারবেন। সারিঘাট লালাখাল ঘুরতে গেলে প্রায় / ঘন্টা সময় ২০০০/৩০০০ টাকা বেশি লাগবে। সময় স্বল্পতা থাকলে সারিঘাট লালাখাল ভ্রমণ বাদ দিয়ে অন্যন্য ট্যুরি স্পটগুলো  বেড়াতে পারেন।

সিলেটের জাফলং যাবেনসতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিতঃ

০১। গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় কোন কোন স্থান ভ্রমণ করবেন ভাড়া কত তা শুধুমাত্র গাড়ি চালকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে গাড়ি নিবেন।

০২। ভ্রমণের জন্য আলাদাভাবে নৌকা ভাড়া নিলে নৌকার ভাড়া কত সময় থাকবে তা আগেই বলে নিবেন।

০৩। রাস্তায় ভেজাল মধু বিক্রি করতে পারে তা না কেনাই ভালো।

০৪। ট্যুরিং স্পট গুলোতে সিলেটের চা বাগানের চা পাতা বিক্রি হয় তা কিনবেন না, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ভেজাল হয়।

০৫। জাফলং ট্যুরিং স্পটে দেশি বিদেশি বিভিন্ন কসমেটিকস বিক্রি হয়, দরদাম মান যাচাই করে কিনবেন।

০৬। জাফলং ট্যুরিং স্পটে রেস্টুরেন্টে গুলোতে খাবারের মান দাম জেনে খাবার কেনা ভালো।

০৭। প্রায় সব ধরবেন ট্যুরিং স্পট গুলোতে বাটপার, ছিনতাইকারীদের আনাগোনা থাকে তাই সতর্ক থাকবেন।

০৮। জাফলং ট্যুরিং স্পটে ঘেষে ভারত সীমান্ত রয়েছে তা অতিক্রম করবেন না।

০৯। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সতর্কতা মেনে চলবেন।

১০। জাফলং জিরো পয়েন্টে সাঁতার না জানলে বেশি দূরে গোসল করতে যাবেন না কিংবা সাঁতার জানলেও গোসল করার সময় নদীতে পানি বেশি থাকলে সতর্ক থাকবেন।

সিলেটে ভ্রমণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো।উল্লেখ্য ট্যুরিং স্পট গুলো সিলেটের কোতোয়ালি থানা, জৈন্তাপুর মডেল থানা গোয়াইনঘাট থানার আওতাধীন রয়েছে। তাই কোন সমস্যায় পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা নিন। তাছাড়া জাফলং ট্যুরিং স্পটের নিরাপত্তা ভ্রমণপ্রিয় পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের বিশেস ক্যাম্প সকল ধরনের সহায়তা করবে।


Comment As:

Comment (0)