সরকারি চাকরি পরীক্ষা প্রস্তুতি ২০২৪ ২০২৫

সরকারি চাকরির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

সরকারি চাকরিঃ

দেশের শিক্ষিত তরুণ তরুণী যে হারে বাড়ছে সে হারে চাকরির শূন্যপদ সৃষ্টি হচ্ছে না। যার কারণে প্রচুর লেখাপড়া করা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অনেক তরুণ তরুণীদের বেকার থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির প্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। তাই আমরা যদি সরকারি চাকরির যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি তাহলে অসফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আজকে এমন কিছু টিপসের বিষয়ে আলোচনা করব যা সরকারি চাকরির লিখিত মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আপনাদেরকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ

সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের পদের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রশ্ন আসে। তাই প্রত্যেকটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। তাছাড়া যে পদে পরীক্ষা দিতে যাবেন তার পূর্ববর্তী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত। পূর্ববর্তী পরীক্ষার প্রশ্নগুলো নিজে নিজে সমাধান করুন কোন জায়গায় আপনার দূর্বলতা রয়েছে শনাক্ত করতে পারবেন। কোন উত্তর কিভাবে দিবেন বা প্রশ্নের সমাধান কিভাবে করবেন তারও একটা প্রস্তুতি নিন। প্রয়োজনে পরীক্ষার হলে যে ভাবে পরীক্ষা দিবেন ঘরে বসে তার মহড়া দিন। তাছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধানে কোনটিতে কত সময় নিবেন তা আগেই নির্ধারণ করে নিবেন। নৈব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় একটিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা উচিত নয়। একটি নৈব্যক্তিক প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করার পর আরেকটিতে চলে না। পরবর্তীতে যথেষ্ট সময় থাকলে সমাধান ব্যতীত নৈব্যক্তিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় করণীয় বর্জনীয়ঃ

০১। পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট সময়ের কমপক্ষে ১৫ মিনিট আগে প্রবেশ করুন।

০২। পরীক্ষার হলে প্রয়োজনীয় যেমন প্রবেশপত্র, কলম, স্কেল অন্যন্য আনুষাঙ্গিক আগের দিন প্রস্তুত করে রাখুন।

০৩। পরীক্ষার হলে মন স্থির রাখা উচিত তাড়াহুড়ো করে কোন কিছুই করতে যাবেন না।

০৪। অনেকে চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে পাশ্ববর্তী পরীক্ষার্থীদের সাথে অতিরিক্ত গল্প গুজব করে, যার ফলে মূল উদ্দেশ্যে ব্যঘাত ঘটতে পারে।

০৫। লিখিত পরীক্ষার সময় নাম রোল নম্বর স্পষ্টভাবে লিখবেন।

মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ

সরকারি চাকরির জন্য প্রতিটি পরীক্ষার ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরীক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ করেন যা খুবই দুঃখজনক। তবে কিছু কৌশল রয়েছে যা অবলম্বন করলে আপনি সহজেই মৌখিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবেন। মৌখিক পরীক্ষায় নিয়োগকর্তারা সব সময় তাদের যোগ্য প্রার্থী খুজেন। তাই আপনাদের কাজ হল অন্যন্য চাকরি প্রার্থীদের চাইতে নিজেকে আরো যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করা। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন তার আরো বিস্তারিত নিচে দেওয়া হল।

০১। নির্দিষ্ট সময়ের আগে মৌখিক পরীক্ষায় হাজিরঃ

পরীক্ষা কেন্দ্রে যথাসময়ে পৌছানোর জন্য যাওয়া এবং আসার রাস্তা সম্পর্কেও ধারনা নেওয়া উচিত।
অনেকে তাড়াহুড়া করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হয়। যা একেবারেই ঠিক নয়। দেরিতে মৌখিক পরীক্ষায় হাজিরের ফলে মানসিক বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। অথচ মৌখিক পরীক্ষায় মানসিক স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হউন।

০২। সুন্দর পোষাক পরিধান করাঃ

সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য পোষাক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রথম সাক্ষাতে নিজেকে ময়লা পোষাক অথবা এলোমেলো চুলে উপস্থাপন করা এবং অতিরিক্ত রঙ্গিন পোষাক পরিধান করা উচিত নয়। এতে নিয়োগকর্তাদের আপনার প্রতি বিরুপ মনোভাবের সৃষ্টি হতে পারে। যা মৌখিক পরীক্ষায় আপনাকে অনেকটা পিছিয়ে দেবে। তাই অতিরিক্ত রঙ্গিন পোষাক ত্যাগ করে মার্জিত পোষাক উচিত।

০৩। শারিরীক ভাষা আত্মবিশ্বাসী থাকাঃ

আমরা জীবনে এমন অনেক মানুষ আমরা দেখতে পাই যাদের শুধুমাত্র শারিরীক ভাষার কারণে আমরা ভালোবাসি না। কারণ তাদের শারীরিক ভাষাটাই যেন বখাটেপনা, বেয়াদবের পরিচয় বহন করে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শারিরীক ভাষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। তাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় শারিরীক ভাষা সুন্দর রাখার চেষ্টা করুন। আচার আচরণে যাহাতে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন।

০৪। আঞ্চলিক ভাষা ত্যাগ করাঃ

নিয়োগকর্তা তার অফিস বা কোম্পানির জন্য সবসময় দক্ষ জনবল নিয়োগ দেন। সরকারি চাকরিতেও তার ব্যাতিক্রম নয়। তাই মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করতে গেলে আমাদের সব দিক দিয়ে নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে হবে৷ তাই আপনি যদি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন বা করবেন তখন অবশ্যই আঞ্চলিক ভাষা ত্যাগ করার চেষ্টা করবেন। কারণ বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে সবাই পারে না। তাই যে চাকরি প্রত্যাশী সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন তিনি চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় অনেকটা ভালো করবেন।

০৫। কেন যোগ্য তার ব্যাখ্যা করাঃ

আমাদের দেশে কম্পিউটারে দক্ষ ব্যক্তি চাকরি করে কৃষি বিভাগে আবার ইলেক্ট্রনিক বিভাগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ব্যক্তি চাকরি করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডে। যার ফলে কর্মক্ষেত্রে আমরা সফল হতে পারছি না। তাই আপনি যে পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন সে পদে আপনার কোন অভিজ্ঞতা থাকলে তার প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেন। অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু উপস্থাপন করুন যা আপনাকে চাকরিতে মনোনয়ন করতে এগিয়ে রাখবে।

০৬। নিজের কাজ সম্পর্কে ধারণা নিনঃ

মৌখিক পরীক্ষায় যে পদে চাকরি প্রত্যাশী সে পদ সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে রাখতে হবে। নিজের দায়িত্ব কর্তব্য কি হতে পারে তার ধারণা রাখুন। কারণ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কাজের বিষয়ে যে কোন সময় জানতে চাইতে পারে। তাই আপনি যদি নিজের কাজ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাহলে চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে আপনাকে অনেকেই সহায়তা করবে।

০৭। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য জানা রাখুনঃ

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি প্রত্যাশী সে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য জেনে রাখুন। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, গঠনের সাল তারিখ, কার্যপ্রণালী প্রধানের নাম ইত্যাদি। কারণ এসব তথ্যের উত্তর না দিতে পারলে সরকারি বা বেসরকারি যে কোন নিয়োগ পরীক্ষায় বোর্ডে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি অর্জন করতে পারবেন না।

০৮। কিছু প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত থাকুনঃ

নিয়োগকারী বোর্ড কর্তৃক কোন প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখবেন না। শুধুমাত্র বোর্ডের প্রশ্ন অনুযায়ী বুঝে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাছাড়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আপনার আত্মবিশ্বাস মনোভাব যাচাই করার জন্য অনেক সময় বিব্রতকর প্রশ্ন করতে পারে সে দিকে সচেতন থাকবেন।নিয়োগকারী বোর্ড অনেক সময় প্রার্থীর সম্মুখে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেন যেমন () তুমি কি কাজটি করার যোগ্য নিজেকে যোগ্য মনে কর? অথবা () তুমি কেন কাজটি করার জন্য আগ্রহী? প্রশ্নগুলো করার উদ্দেশ্য আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য কিনা যাচাই করা। তাই এমন ভাবে উত্তর দিন যাহাতে কাজটি সম্পর্কে আপনার যোগ্যতা এবং আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।

০৯। নিজ এলাকা সাম্প্রতিক বিষয়ে ধারনা রাখাঃ

নিজ এলাকার বিখ্যাত ব্যক্তি, সংস্কৃতি,উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক স্থাপনা সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিন। কারণ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি নিজ বাসস্থান সম্পর্কে কতটুকু জানেন অথবা আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কিনা তা যাছাই করতে পারেন।

১০। নিজের সম্পর্কে ব্যক্তৃতা দেওয়াঃ

যে কোন চাকরির নিয়োগকর্তা কর্তৃক একটি পরিচিত প্রশ্ন যে নিজের সম্পর্কে ০৫ মিনিট ব্যক্তৃতা দেন। ফলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীগণ অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তাই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এমন প্রশ্ন উপস্থাপিত হলে সর্বপ্রথম বিচলিত হওয়া যাবে না। মাথা ঠান্ডা করে নিজের নাম, ঠিকানা, স্কুল কলেজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রিয় শখ ইত্যাদি সম্পর্কে সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলুন। আপনি নিশ্চিত ভাবে সরকারি বেসরকারি চাকরিসহ যে কোন মৌখিক পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে সফল হবেন।


Comment As:

Comment (0)