রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিভিন্ন দেশের অবস্থান।

 

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে উভয় দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু। হয় যা বর্তমান ২০২৩ সালেও চলমান রয়েছে।রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বিভিন্ন দেশের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে বিপরীতমুখী অবস্থান নিতে দেখা যায়।যে দেশের পক্ষ রাশিয়া নিবে আমেরিকা তার বিপক্ষে যাবে বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক

আজকের পোস্টের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বিভিন্ন দেশের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।বর্তমানে বিশ্বে সামরিক শক্তিমত্তার দিক দিয়ে আমেরিকা ১ম রাশিয়া ২য় অবস্থানে রয়েছে।এমতাবস্থায় বিশ্ব পরাশক্তি দেশ দুটির মধ্যে দিনের পর দিন বিরোধ চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

আমেরিকা তাদের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সামরিক জোট ন্যাটো (NATO) গঠন করে। তারা একে অপরের সামরিক সহযোগিতা সহ সকল ধরনের সহায়তা করার জন্য একতাবদ্ধ।

এমতাবস্থায় রাশিয়া আমেরিকা তার মিত্রদের দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি মনে করছে।পাশ্ববর্তী দেশ ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দিতে পারে এমন সম্ভাবনা রাশিয়ার প্রতি সরাসরি হুমকি বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। যার ফলে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আমেরিকা তার মিত্ররা ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে পারমাণবিক পরীক্ষা, মানবাধিকার লংঘন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উত্তর কোরিয়া ইরানের সাথে আমেরিকা তার মিত্রদের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ চলমান ছিল।

তাছাড়া আমেরিকা মনে করে চীন তাদের আগ্রাসী নীতিতে বিশ্বাসী এবং তার আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোকে চাপে রাখছে। যার ফলে আমেরিকা স্বাভাবিক ভাবেই চীনের বিভিন্ন নীতি কৌশলকে হুমকি বলে মনে করে। ফলে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া, চীন ইরান স্বাভাবিক ভাবেই রাশিয়াকে সমর্থন করছে।

আন্তজার্তিক বিভাজনের রজনীতির প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে ইরান শাহেদ নামক ড্রোন দিয়ে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। স্বাভাবিক ভাবেই চীনও রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে জাতিসংঘ সহ আন্তজার্তিক বিভিন্ন চীন খোলাখোলিভাবে রাশিয়াকে সমর্থন করছে।

অন্যদিকে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধে স্বাধীনতার প্রশ্নে রাশিয়া যেভাবে সামরিক কুটনৈতিক দিক দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে তাতে বড় ধরনের কিছু না ঘটলে ভারত রাশিয়াকেই সমর্থন করবে বলে মনে করা হয়।

তবে আমেরিকা সহ তার মিত্ররা মনে করে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া জয়ী হতে পারবে না। অন্যদিকে রাশিয়া মনে করে এই যুদ্ধে জয়ী না হওয়া তাদের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করে বর্তমানে উভয় পক্ষই তাদের ভূল বুঝতে পেরেছেন।

আলোচনা রাস্তা যদি কোন দেশ তৈরি করতে পারে তাহলে হয়তো রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। আমেরিকা মনে করে বর্তমানে প্রেক্ষিতে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চীন ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া চীন ভারতকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

আশার কথা হচ্ছে চীন বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইউক্রেনকে ১২ দফা শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। অনেকে মনে করেন এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চীনের ১২ দফা শর্তের বিষয়ে রাশিয়া সবুজ সংকেত রয়েছে। তাছাড়া চীনের ১২ দফার বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

বর্তমান প্রেক্ষিতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের উপর খাদ্য, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের ডেকে আনছে। তাছাড়া যে কোন সময় এই যুদ্ধ পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক,সবার প্রত্যাশা অচিরেই বন্ধ হোক যুদ্ধ।


Comment As:

Comment (0)