ফেসবুকে যে কাজগুলো করলে

ফেসবুকে যে কাজগুলো করলে ১০ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে।

ফেসবুক (Facbook):

আমাদের দেশের বিরাট একটি অংশ ফেসবুক ব্যবহার করে। বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুক ব্যবহারের ফলে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, তথ্য আদান-প্রদান, ছবি শেয়ারিং মনের অভিব্যক্তি অপরের নিকট প্রকাশ করা আরো সহজ হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু ফেসবুক ব্যবহার করেন না এমন লোক পাওয়া কঠিন। তাই ফেসবুকে করনীয় বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত। আজকের পোস্টের মাধ্যমে ফেসবুকে যে কাজগুলো করলে ১০ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে তার বিস্তারিত আলোচনা করব।

ফেসবুকের অপব্যবহার (Abuse of Facebook):

আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন প্রয়োজনীয় তেমনি এর অব্যবহারে ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকও তার ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে ফেসবুকে এমন কিছু অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে যার শাস্তির বিধান বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নেই। তাই ফেসবুকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ প্রণীত হয়। এই আইন অনুযায়ী ফেসবুকে যে সকল কাজ করা যাবে না তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুকে অপরাধ তার শাস্তি (Crime and punishment on Facebook):

০১। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতঃ

বর্তমানে খুবই আলোচিত বিষয় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। যদি ফেসবুকে এমন কোন ভিডিও, ছবি বা পোস্ট করা হয় যা কোন ব্যাক্তির ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক ১০ লক্ষ (অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৮ ধারা)

০২। ফেসবুকে মানহানি করাঃ

আমরা অহরহ এমন কিছু কাজ করি যা আইনবিরোধী। যার মূল কারণ দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান না থাকা। ফেসবুকে মানহানি করা তার অন্যতম। এমন কোন ভিডিও, ছবি বা মন্তব্য করা যাবে না যার ফলে অন্যের মানহানি হয়। ফেসবুক বা ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি করার শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক লক্ষ (অর্থাৎ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৯ ধারা)

০৩। ফেসবুকের মাধ্যমে আইনশৃঙ্গলা অবনতি করাঃ

ফেসবুক বা কোন ডিজিটাল মাধ্যমে এমন কোন ভিডিও, ছবি বা মন্তব্য করা যাবে না যার ফলে আইনশৃঙ্খলা অবনতি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি, মানুষের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ, শত্রুতা সৃষ্টি হয়। শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক লক্ষ (অর্থাৎ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৩১ ধারা)

০৪। ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য বা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানোঃ 

ফেসবুকে যে কাজগুলো করলে ১০ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য, প্রগাপান্ডা   গুজব ছড়ানোর মত অপরাধ তার শাস্তি অনধিক ১০ বছর (অর্থাৎ ১০ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক কোটি (অর্থাৎ কোটি টাকার নিচে) যে কোন জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২১ ধারা)

০৫। ফেসবুকে প্রতারণাঃ

ফেসবুকে প্রতারণা অর্থ তথ্য বিকৃতি, ক্ষতি করা বা ছলনার আশ্রয়। যদি কোন ব্যাক্তি ফেসবুকে প্রতারণা করেন তাহলে তার শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক লক্ষ (অর্থাৎ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩ ধারা)

০৬। ফেসবুকে পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণঃ

ফেসবুকে ঠকাইবার উদ্দেশ্য অপর কোন ব্যাক্তির ছদ্ধবেশ ধারণ করলে জেল হতে পারে। তার শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক লক্ষ (অর্থাৎ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারা)

০৭। ফেসবুকে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা তথ্য প্রকাশঃ

ফেসবুকে যদি এমন কোন তথ্য প্রকাশ করা হয় যা আক্রমণাত্মক, মিথ্যা ভীতি প্রদর্শন করে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার শাস্তি অনধিক বছর (অর্থাৎ বছরের নিচে) যে কোন কারাদণ্ড। অনধিক লক্ষ (অর্থাৎ লক্ষ টাকার নিচে) যে কোন জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। ( ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫ ধারা)


Comment As:

Comment (0)