ধর্মীয় অনুভূতি

বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শাস্তি (সনাতন, ইসলাম,  খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্ম)।

ধর্মীয় অনুভূতিঃ

বাংলাদেশের মানুষের জীবনে ধর্ম একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মকে শ্রদ্ধা করে। অনেক সময় এক ধর্মের অনুসারীরা অন্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মত কাজ করে। অনেকে স্ব স্ব ধর্ম সম্পর্কেও বিরুপ মন্তব্য করে। এমতাবস্থায় এক শ্রেণীর লোক মানুষের অতিরিক্ত ধর্মের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি করে যা বাংলাদেশের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।

বাংলাদেশে সনাতন, ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ধর্ম অবমাননার শাস্তি আইনে বর্ণিত রয়েছে। মানুষ যতগুলো উপায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে তার শাস্তি দন্ডবিধি আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে। যা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কিঃ

ধর্ম হল মানুষের বিশ্বাস আদর্শ। যখন কোন ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা মানুষের বিশ্বাস আদর্শের বিরুদ্ধে যায়, মানুষের মনে আঘাত লাগে তাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদানের পদ্ধতিঃ

মানুষ বিভিন্ন উপায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে। প্রতিটি অপরাধের সম্পর্কে আইনে বর্ণনা করা হয়েছে। যে সকল কাজ করলে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে তা নিম্নে দেওয়া হল।

০১। ধর্মীয় উপাসনায় নষ্ট অপবিত্র করা।

০২। লিখিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।

০৩। ধর্মীয় সমাবেশে গোলমাল করার মাধ্যমে।

০৪। উপাসনালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে।

০৫। মৌখিক ভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আঘাত করে।

০৬। ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট বা কোন ডিজিটাল মাধ্যমে ধর্মীয় আঘাত।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দান করার শাস্তিঃ

ধর্ম ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় তাই কারো ধর্মের বিষয়ে খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়। যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ সনাতন, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা অন্য কোন ধর্ম অবমাননা করে তাহলে তা শাস্তি যোগ্য অপরাধ হবে। উক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় বা আদালতে মামলা করা যাবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইন অনুযায়ী জেল অথবা জরিমানা হতে পারে।

আরওঃ মামলায় পড়লে কি করবেন

উপাসনালয় ক্ষতিসাধন বা অপবিত্র করাঃ

আমাদের দেশে রকম ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। যা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দণ্ডবিধি আইনের ২৯৫ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি ধর্মীয় উপাসনালয় অপবিত্র, অনিষ্ট বা ধ্বংস করে তাহলে সে ব্যক্তি অপরাধী হবে। যার শাস্তি ০২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে অথবা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

ধর্মীয় বিদ্বেষাত্নক কার্যঃ

ধর্মীয় বিদ্বেষাত্নক মূলক কার্য বলতে যদি কোন ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দানের উদ্দেশ্য লিখিত শব্দবলীর মাধ্যমে বা কল্পমূর্তির মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করে তাহলে তা অপরাধ হবে ( উদাহারণঃ লিখিতভাবে পোষ্টারে ধর্ম সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা) দন্ডবিধি আইনের ২৯৫ ধারা মোতাবেক তার শাস্তি  ০২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে অথবা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

ধর্মীয় সমাবেশ গোলযোগ সৃষ্টিঃ

যদি কোন ব্যক্তি উপাসনালয়ে বা ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানে গোলমাল সৃষ্টি করে তবে সে ব্যক্তি অপরাধী হবে (উদাহারণঃ উপাসনালয় বলতে মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, প্যাগোডা হতে পারে) এমনকি  ধর্মীয় অনুষ্ঠানস্থল বলতে কীর্তন অথবা ওয়াজস্থল  অন্তর্ভূক্ত। দন্ডবিধি আসনের ২৯৬ ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি ০১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে অথবা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

সমাধিস্থলে ধর্মীয় অবমাননাঃ

সমাধিস্থলে অনধিকার প্রবেশ করলেও ধর্মীয় অবমাননা হয়। এই সম্পর্কে দন্ডবিধি আইনের ২৯৭ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।  আইনটিতে বলা হয়েছে যদি কোন ব্যক্তি ধর্মকে অবমাননা করার উদ্দেশ্য কোন উপাসনালয়, সমাধিস্থল/কবরস্থান বা অন্তোষ্টিক্রিয়া স্থলে অনধিকার প্রবেশ অথবা  মৃত মানুষের দেহের প্রতি অবমাননা করে অথবা অন্তোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যঘাত ঘটায় তাহলে তা অপরাধ। যার শাস্তি ০১ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে অথবা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য শব্দঃ

যদি কোন ব্যক্তি ধর্ম অবমাননা করার জন্য এমন কোন শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে যা ব্যক্তির শ্রুতিগোচর হয় তাহলে অপরাধ হবে। দণ্ডবিধি আইনের ২৯৮ ধারা মোতাবেক তার শাস্তি ০১ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে অথবা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় অনু্ভূতিতে আঘাতঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ অন্য কোন উপায়ে ধর্ম অবমাননা করলে শুধুমাত্র স্থানীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। বড় ধরনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন ফেসবুকইউটিউব ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ধরনের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননা করলে খুব সহজে বিস্তার লাভ করে। ফলে বড় ধরনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়।

অনেক সময় বাড়িঘর ভাংচুরধর্মীয় উপসনালয় ধ্বংস এমনকি হত্যার মত ঘটনাও ঘটে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদান করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮() ধারা  অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি  ওয়েবসাইট বা যে কোন ইলেকট্রনিকস মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দান করার উদ্দেশ্য কোন তথ্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাহলে তা অপরাধ হবে। যার শাস্তি অনধিক ০৫ বছর  অর্থাৎ ০৫ বছরের উপরে নয় এমন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

আরওঃ জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করা কতটা কার্যকর


Comment As:

Comment (0)