দূর্নীতি প্রতিরোধের উপায়।

 

সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম এবং দূর্নীতি কিভাবে ছড়িয়ে রয়েছেঃ

সরকারি চাকরি করার সময় বর্তমানে অনেকেই উপরি কত পড়ে তা বিবেচনা করে। আবার অনেকে টাকা দিয়ে সরকারি চাকরি পেতে চেস্টা করে পড়ে তারা সহজেই দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে নির্মাণ কাজ করে। আবার পরিদর্শকরা যারা কাজের তদারকি করে তারা আবার টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের কাজের বৈধতা দেয়। আবার অনেকে টাকা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অনুমতি নিয়ে আসে।

গেটের দারোয়ান ঘুষের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরি করতে সহায়তা করে। গাড়ির চালক সাধারণ জনগণের নিকট হতে ভাড়া বেশি নেয়, মালিকের ব্যাক্তিগত গাড়ি হলে তেল বিক্রি করে বাড়তি আয় করে। অফিসের প্রধান পার্সেন্টেজ এর বিনিময়ে ভালো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে দেয়, দায়িত্বশীল কর্মচারীদের মূল্যয়ন না করে তেলবাজ কর্মচারীদের মূল্যায়ন করেন। দিনমজুর সুযোগ পেলেই কাজের অবহেলা করে। দোকানের কর্মচারী সুযোগ পেলেই টাকা চুরি করে। হাসপাতালের কর্মচারী সুযোগ পেলে ঔষধ বিক্রি করে দেয়।

হাসপাতালের ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সদস্য সুযোগ পেলে রোগীর আত্মীয় স্বজনদের ব্লাকমেল করে। ডাক্তার রা সুযোগ পেলেই নিজের কাজের অবহেলা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখে, ঔষুধ কোম্পানির কম মানসম্মত ঔষধ লিখে দেন। শিক্ষকরা ক্লাসের পড়ানোয় গুরুত্ব না দিয়ে কোচিং সেন্টারে বেশি মনোযোগী। সাধারণ জনগণ টাকার বিনিময়ে ভোট দেন। চেয়ারম্যান মেম্বার নিজস্ব লোকদের সরকারি সুযোগ বেশি দেন।

দূর্নীতি প্রতিরোধের উপায়ঃ

অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যেখানে দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম স্বাভাবিক ঘটনা। নিয়ম নীতির কথা সেখানে অত্যন্ত বেমানান আশ্চর্যজনক বিষয়। সাধারণ রিকশাচালক খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের উর্ধতন আমলা পর্যন্ত দূর্নীতির সাথে জড়িত। কথাটি বলার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। দেখবেন রিকশায় উঠছেন কত অজুহাতে ভাড়া বেশি দাবি করবে তার ঠিক নেই। সরকারি অফিসে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য যান আপনার কাজ নানা অজুহাতে করবে না বা পিছিয়ে দিবে। আবার বাড়তি উতকোচ দিলে টিকই করে দিবে।

অন্যন্য দেখে যেখানে দূর্নীতি অসৎউপায় অবলম্বনকে ঘৃনার চোখে দেখা হয় সেখানে আমাদের দেশে সমাজের প্রতিষ্ঠিত যোগ্য লোক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবার থেকে শুরু করে সব জায়গায় দূর্নীতিবাজ অসৎ উপার্জনকারী ব্যাক্তিরা অত্যন্ত সম্মানিত হয়। অথচ তাদেরকে যদি ঘৃনার চোখে দেখা হত তাহলে এদেশের দূর্নীতি অনেক কমে আসত। তাছাড়া দূর্নীতি প্রতিরোধ আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। দূর্নীতি কিংবা অনিয়মের শিকার হলে তা মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। সরকার ব্যাক্তিকেন্দ্রিক প্রতিবাদ দূর্নীতি কিংবা অনিয়মকে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা, প্রচেষ্টা, সহযোগিতা প্রতিবাদই পারে দূর্নীতি নামক বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে। সবাই দেশকে ভালোবাসুন, দেশের মানুষকে ভালোবাসুন।


Comment As:

Comment (0)