ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আসলে কি, এই আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি?

বিভিন্ন দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি দেশের প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইন রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে পৃথিবী পরিবর্তন হয়েছে, এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তনের সাথে অপরাধের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরাধীরা প্রচলিত অপরাধের বাইরে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যম  যেমন কম্পিউটার, ওয়েবসাইট, মোবাইল, ফেসবুক বা ইউটিউবে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করছে। কিন্তু এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচলিত আইনে কোন শাস্তির বিধান নাই। যার প্রেক্ষিতে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পাস করা হয়।আজকের পোস্টের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আসলে কি, এই আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গুরুত্বপূর্ণ?

যে কোন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধের শাস্তি, ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া, স্পেশাল  ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার কার্যক্রম এর জন্য এই আইন অতি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত যে সকল আপরাধের জন্য এই আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে

০১। ওয়েবসাইট, ফেসবুক ইউটিউব এর মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিকে আঘাত করে এমন তথ্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করা।

০২। ওয়েবসাইট, ফেসবুক বা ইউটিউব মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা।

০৩। ওয়েবসাইট, ফেসবুক বা ইউটিউব এর মাধ্যমে সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গ করা।

০৪। কোন ডিজিটাল মাধ্যম হইতে বেআইনিভাবে তথ্য উপাত্ত ধারণ বা স্থানান্তর করা।

০৫।ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব বা যে কোন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম হ্যাকিং করা।

০৬। সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন করা।

০৭। ফেসবুক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আক্রমণাত্মক মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শন বা তথ্য উপাত্ত প্রেরণ বা প্রকাশ করা।

০৮। ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচয় প্রতারণার ছদ্মবেশ ধারণ করা।

০৯। তাছাড়া যদি কোন ব্যক্তি ওয়েবসাইট ফেসবুক বা ইউটিউব মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রচারণা  বা প্রগাপান্ডা করা।

যদি কোন ব্যাক্তি উপরোল্লিখিত কোন ধরনের  অপরাধ কার্য সংঘটন করে তাহলে উক্ত ব্যাক্তি অপরাধের ধরণ প্রকৃতি অনুযায়ী  ডিজিটাল নিরাপত্তা  আইন-২০১৮ এর বিভিন্ন ধারা অনুসারে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। তাছাড়া যদি কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে উল্লেখিত অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে ভুক্তভোগী ব্যাক্তি অথবা ভিকটিম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ অনুযায়ী অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা অথবা আদালতে মামলা করতে পারবেন।


Comment As:

Comment (0)