ডাকাতির শাস্তি

ডাকাতির শাস্তি কি? ডাকাতির মাল ক্রয় করা কি অপরাধ!

ডাকাতিঃ

ডাকাতি একটি আমলযোগ্য,জামিন অযোগ্য আপোষ অযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে আমাদের দেশে গৃহ, নৌকা, স্বর্ণের দোকান গাড়ি ডাকাতির মত ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ডাকাতরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে পুনরায় ডাকাতি শুরু করে। দন্ডবিধি আইনে ডাকাতির মত গুরুতর অপরাধের যথেষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। আজকের পোস্টের মাধ্যমে ডাকাতির শাস্তি কি ডাকাতির মালামাল ক্রয় করা অপরাধ কিনা বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ডাকাতি কিঃ

যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যাক্তি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয় ভয় ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন করে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয় তখন তাকে ডাকাতি বলে। ডাকাতিকালে পাঁচ বা তার উপরে অপরাধী থাকতে হবে না হলে তা দস্যূতা হবে (আইনে দস্যুতারও শাস্তি ১০ বছরের মত জেল) বিভিন্ন ধরনের ডাকাতির সংঘটনের প্রক্রিয়ায় শাস্তির ভিন্নতা রয়েছে।

০১। ডাকাতির শাস্তি কিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি ডাকাতি করে তাহলে তার শাস্তি সশ্রম কারাদন্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। (দন্ডবিধি আইন ৩৯৫ ধারা)

০২। খুনসহ ডাকাতির শাস্তি কিঃ

ডাকাতি করাকালে যদি কোন ডাকাত দলের সদস্য খুন করে তাহলে ডাকাত দলের প্রত্যেক সদস্য মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। (দন্ডবিধি আইন ৩৯৬ ধারা)

০৩। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের উদ্যেগ সহকারে ডাকাতিঃ

যদি ডাকাতি করা কালে অপরাধীগণ মারাত্মক অস্ত্র যেমন দা, কুড়াল, কিরিচ,শাবল ব্যবহার করে ডাকাতি করে বা এসব অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করে তাহলে তাহলে অপরাধীগণ ০৭ (সাত) বছরের উপরে কারাদণ্ডে দন্ডিত হবে।(দন্ডবিধি আইনের ৩৯৭ ধারা) সাধারণত থানায় ডাকাতির মামলা দন্ডবিধি আইনের ৩৯৫ ৩৯৭ ধারায় মামলা রুজু হয়।

০৪। মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতি উদ্যেগঃ

যদি ডাকাতির সময়কালে ডাকাত দলের সদস্যগণ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয় তাহলে তাহার শাস্তি ০৭ (সাত) বছরের উপরে কারাদণ্ডে দন্ডিত হবে।(দন্ডবিধি আইনের ৩৯৮ ধারা)

ডাকাতির মালামাল ক্রয় করা কি অপরাধঃ

ডাকাতি করা যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ তেমনি ডাকাতির মালামাল ক্রয় করাও অপরাধ।  আমাদের দেশে এমন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে যারা জেনে শুনে ডাকাতির মালমাল কম দামে ক্রয় করে থাকে। বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ তা অনেকে জানে না। অনেকে অপরাধ জানা সত্বেও পেশাগতভাবে ডাকাতির মালামাল ক্রয় করে থাকে। আইনে সংক্রান্তে স্পষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে।

যদি কোন ব্যাক্তি ডাকাতির মালা জানা সত্বেও তা ক্রয় করে তাহলে উক্ত ব্যাক্তি ডাকাতির মাল অসাধুভাবে গ্রহনের দায়ে অপরাধী হবে। যাহার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড যাহার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হবে।(দন্ডবিধি আইন ৪১২ ধারা)

তাছাড়া যদি কোন ব্যাক্তি ডাকাতির মালামাল গোপন করতে বা হস্তান্তর করতে সহযোগিতা করে তাহলে তার শাস্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যার মেয়াদ ০৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা দন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে। (দন্ডবিধি আইন ৪১৪ ধারা)


Comment As:

Comment (0)