নিরাপত্তার জন্য জিডি

জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি কতটা কার্যকর।

জিডি (General Dairy):

জিডি শব্দটি আমাদের নিকট খুবই পরিচিত। এনআইডি,পাসপোর্ট, চেকবই হারানো, নিখোজ সংবাদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারানো বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকিসহ নানা কারণে থানায় জিডি করা হয়। আজকের পোস্টে জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি কতটা কার্যকর তার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।

জীবনের নিরাপত্তার জন্য জিডিঃ

বিভিন্ন কারণে আমাদের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ হুমকি ধমকির কারণে অনেক সময় প্রাণনাশের মত ঘটনা ঘটে। তাই অনেকে জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেন।

জিডি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

আমাদের মনে রাখতে হবে আইন আদালত, পুলিশ বিভাগ, বিচার বিভাগ সবই আইন অনুযায়ী চলে। প্রতিটি বিভাগ কিভাবে চলবে তার সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আপনি যদি থানায় জিডি করেন তাহলে তার তদন্ত হবে। আপনার জিডির প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন এসআই বা এএসআই বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দিবেন। অনেকে মনে করেন জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করে রাখব কিন্তু তদন্ত যাতে না করা হয়। বিষয়টি সম্ভব নয় কারণ হুমকি ধমকির জিডি করা মানে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা। আর পুলিশের কাজ হল অপরাধ তদন্ত করে অপরাধীর শাস্তি জন্য আদালতে সঠিক রিপোর্ট দিয়ে অপরাধীর বিচার করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জীবনের নিরাপত্তার জন্য কোন বিষয়ে জিডি করা হয়ঃ

প্রকৃতপক্ষে জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করার কোন নিয়ম নেই। আপনি যদি মনে করেন আপনার বিরুদ্ধে এমন কোন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বা হতে পারে যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ তার জন্য থানা বা আদালতে লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেলে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং আদালত তার বিচার করবে। নিম্নবর্ণিত অপরাধগুলো সাধারণ জীবনের নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন-

০১। স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করাঃ

যেমন নীলাফুলা জখম, যাহা দন্ডবিধি আইনের ৩২৩ ধারা অপরাধ। এই ধারার অপরাধের শাস্তি ০১ বছরের মধ্যে যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড বা জরিমানা দন্ড হাজার টাকা বা উভয়দন্ড হতে পারে।

০২। অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনঃ

যদি কোন ব্যাক্তি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় তাহলে দন্ডবিধি আইনের ৫০৬ ধারা মোতাবেক অপরাধ হবে। উক্ত ব্যাক্তির ০২ বছরের মধ্যে যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড বা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

০৩। হত্যার হুমকিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি মৃত্যু ঘটানো, গুরুতর আঘাত করা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া বা এমন অপরাধের হুমকি দেয় যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড তাহলে দন্ডবিধি আইনের ৫০৬() ধারা মোতাবেক অপরাধ হবে। উক্ত অপরাধের শাস্তি ০৭ বছরে মেয়াদের কারাদন্ড বা জরিমানাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে।

উপরে উল্লেখিত অপরাধসহ যে কোন অপরাধের প্রেক্ষিতে থানায় জিডি করতে পারবেন। থানার পুলিশ অফিসার তদন্ত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দিবেন। যেমন মারধরের জন্য দন্ডবিধি আইনের ৩২৩ ধারা, হুমকির জন্য দন্ডবিধি আইনের ৫০৬ ধারা এবং প্রাণনাশের হুমকির জন্য দন্ডবিধি ৫০৬() ধারা মোতাবেক আদালতে ননএফআইর প্রসিকিউশন দাখিল করেন। তাছাড়া আপনার অভিযোগটি গুরুতর হলে নিয়মিত মামলা রুজু করতে পারেন

জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি কতটা কার্যকরঃ

পরিশেষে বলব জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করলে পুলিশ অফিসার অপরাধের ধরণ অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদনে দাখিল করবেন। তবে পুলিশ অফিসারের নিকট আপনার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ দিতে হবে তাহলে আপনি আইনী সহযোগিতা পাবেন। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে দন্ডবিধি আইনের ৩২৩,৫০৬,৫০৬() ধারার অপরাধগুলো জামিনযোগ্য অর্থাৎ আদালত অপরাধীদের জামিন দিয়ে দিবে। তবে অপরাধীদের নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তবে আপনি যদি আপনার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আইনের আশ্রয় নেন তাহলে অবশ্যই বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতের বাড়তি সহযোগিতা পাবেন।

বিঃ দ্রঃ- আইন আদালত অপরাধ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কোনটি অপরাধ বা কোনটি অপরাধ নয় তা সম্পর্কে আমাদের অনেকের জানা নেই। একটা বিষয় মনে রাখবেন, যে সকল বিষয় আপনি সাধারণ বিবেক অনুযায়ী মনে করেন অপরাধ তার প্রত্যেকটি অপরাধের বিষয়ে আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।


Comment As:

Comment (0)