খুনের শাস্তি কি

খুনের শাস্তি কি? চোর বা ডাকাতকে কি হত্যা করা যায়।

খুন বা হত্যা (murder):

খুন বা হত্যা করা একটি আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য আপোষঅযোগ্য অপরাধ। যদি কোন ব্যাক্তি খুনের মত অপরাধ করে তাহলে তাকে পুলিশ পরোয়ানা ব্যাতীত অর্থাৎ আদালতের আদেশ ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশে খুবই ছোট খাট বিষয় নিয়ে খুনের মত ঘটনা ঘটছে। খুন বা হত্যা করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আজকের পোস্টের মাধ্যমে দন্ডবিধি আইন অনুযায়ী খুনের শাস্তি কি, আত্মরক্ষার জন্য চোর বা ডাকাতকে কি হত্যা করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।

খুন বা হত্যা কি (what is murder):

যদি কোন ব্যাক্তি অপর কোন ব্যাক্তির মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও এমন কোন ধরনের আঘাত করে যার ফলে উক্ত ব্যাক্তির মৃত্যু হয় তখন তাকে খুন বা হত্যা বলে। (দন্ডবিধি আইন ৩০০ ধারা)

খুনের শাস্তি কি (Punishment for murder):

যদি কোন ব্যাক্তি অপর কোন ব্যাক্তিকে খুন করে তখন তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। (দন্ডবিধি আইন ৩০২ ধারা)

তাছাড়া এমন কোন ব্যাক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড দন্ডিত হয়ে পুনরায় খুন করে তখন তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। (দন্ডবিধি আইন ৩০৩ ধারা)

অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি (Punishment for culpable homicide):

অপরাধজনক নরহত্যা বলতে এমন কোনভাবে হত্যা যার ফলে কোন কিছুর মাধ্যমে মৃত্যুর সম্ভাবনা সৃষ্টি করে কোন ব্যাক্তিকে হত্যা করা হয়। যেমন কোথাও গর্ত করে গর্তের ভিতরে লোহার রড রেখে দিয়ে উপরে লতাপাতা রাখা হল। অন্য কোন ব্যাক্তি উক্ত ফাঁদে পা দিয়ে মারা গেল তখন তা অপরাধজনক নরহত্যা হবে। অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হবে। (দন্ডবিধি আইন ৩০৪ ধারা)

অবহেলা জনিত কার্যের মাধ্যমে হত্যার শাস্তি (for manslaughter by negligent act):

যদি কোন ব্যাক্তি অবহেলা জনিত তাচ্ছিল্যপূর্ন কোন কাজ করে যার ফলে উক্ত কার্যের দ্বারা কোন ব্যাক্তি মারা যায় তখন তা অপরাধ হবে। যেমন কোন ব্যাক্তি কাউকে হত্যার উদ্দেশ্য ব্যাতীত বাড়ি বানানোর জন্য গর্ত করে অরক্ষিত ভাবে রেখে দেয়, ফলে রাত্রীকালে উক্ত গর্তের মধ্যে একজন ব্যাক্তি মারা যায়। এমন কার্যের শাস্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যা সর্বোচ্চ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। ( দন্ডবিধি আইন ৩০৪- ধারা)

বেপরোয়া যানবাহন বা ঘোড়া চালিয়ে হত্যা করার শাস্তি (Punishment for killing by reckless vehicle or horse):

যদি কোন ব্যাক্তি খুবই বেপরোয়া গাড়ি বা ঘোড়া চালিয়ে হত্যা করে তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। আমাদের দেশে গাড়ি চালিয়ে হত্যার মত ঘটনা সচরাচর ঘটে। যার শাস্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যা সর্বোচ্চ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। (দন্ডবিধি আইন ৩০৪- ধারা) বিঃ দ্রঃ- এটি দুর্বল একটি আইন যার কারণে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যা করলে শাস্তি কম হত কিন্তু বর্তমানে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হলে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা হয় যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

খুন বা হত্যার চেষ্টা করা শাস্তি (Attempted murder is punishable):

যদি কোন ব্যাক্তি এমন কোন কার্য করে যা সম্পন্ন হলে খুনের অপরাধে অপরাধী হত তবে তার শাস্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। আর যদি হত্যার চেষ্টার ফলে আঘাত করা হয় তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড। (দন্ডবিধি আইন ৩০৭ ধারা)

চোর বা ডাকাতকে কি হত্যা করা যায় (A thief or a robber can be killed)

আমরা প্রায় সকলেই জানি আত্মারক্ষার অধিকার সকলের রয়েছে। আর তাই আত্মরক্ষার জন্য চোর বা ডাকাতকে হত্যা করা যায়। মানুষের আত্মরক্ষার অধিকার সংক্রান্ত দন্ডবিধি আইনের ৯৬ হইতে ১০৬ ধারায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। দন্ডবিধি আইনের ১০০ ধারা মোতাবেক যদি চোর বা ডাকাত দল বা যে কোন ব্যাক্তি খুন, গুরুতর আঘাত, ধর্ষণের অভিপ্রায়ে আক্রমণ, অপ্রাকৃত কাম লালসা, অপহরণ করার উদ্দেশ্য আক্রমণ করে। অবৈধভাবে আটকের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে যার থেকে মুক্তলাভ করা সম্ভব নয় সে সকল আক্রমণের বিরুদ্ধে খুন বা হত্যা করলেও অপরাধ হবে না।

তাছাড়া দন্ডবিধি আইনের ১০৩ ধারা মোতাবেক চোর বা ডাকাত দল কর্তৃক দস্যুতা, রাত্রি বেলায় অপথে গৃহে প্রবেশ, বাসগৃহে আগুন বা চুরি করার সময় এমন আক্রমণ করে যার ফলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য এমন আক্রমণের বিরুদ্ধে খুন বা হত্যা করলেও অপরাধ হবে না। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত অপরাধ সংঘটিত হবার সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আত্মরক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করা যাবে। প্রয়োজনে উক্ত আইন বলে হত্যা ব্যতীত অন্য ক্ষতি করলেও অপরাধ হবে না। (দন্ডবিধি আইন ১০০,১০৩ ধারা )

বিঃদ্রঃ আত্মরক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগ কালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্ষতি বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না। সরকারি কর্মচারীর আইনসঙ্গত কার্যের বিরুদ্ধে আত্মারক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না যদি না তা মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া যে ক্ষেত্রে সরকারি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা লাভের সুযোগ থাকে সেক্ষেত্রে আত্মরক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগ ক্ষতি বা হত্যা করা যাবে না।(দন্ডবিধি আইন ৯৯,১০১,১০২,১০৪,১০৫ ধারা)


Comment As:

Comment (0)