ইভটিজিং করার শাস্তি

ইভটিজিং করার শাস্তি কি? ইভটিজিং এর শিকার হলে কি করবেন।

 

ইভটিজিং কিঃ

ইভটিজিং আমাদের দেশে একটি পরিচিত শব্দ। ইভটিজিং একটি মারাত্মক অপরাধ এবং সংক্রান্ত অপরাধের জন্য আইনে শাস্তি রয়েছে। ইভটিজিং সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গেলে, যদি কোন ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিগণ এমন কোন আচার আচরণ বা কার্যকলাপ করে যা যৌনতার ইঙ্গিত দেয় বা কোন ব্যাক্তি যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য কোন নারীর অঙ্গ স্পর্শ করে শ্লীলতাহানি করে তাকে ইভটিজিং বা যৌননিপীড়ন বলে।

ইভটিজিং যৌননিপীড়ন এর কারণঃ

অসংস্কৃতি, অশ্লীল সিনেমা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ছবি, বিভিন্ন প্রকারের অশ্লীল ভিডিও দেখে আমাদের সমাজের কতিপয় বখাটে যুবক দ্বারা স্কুল,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ যেকোনো বয়সের নারী শ্রমজীবী, চাকরিজীবী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত নারীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়।

ইভটিজিং যৌননিপীড়ন বড় ধরনের অপরাধ সৃষ্টির কারণঃ

ইভটিজারদের উৎপাতে কারনে অনেক নারী আত্মহত্যা করে জীবন বিসর্জন দেয় অপরদিকে বখাটে যুবকদের উত্ত্যক্ত করায় বাধা দেওয়ায় উক্ত নারীর পিতা-মাতা ভাই বোনদের খুন করছে। অনেক সময় এসিড নিক্ষেপ করে মুখ মন্ডল বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে চিরতরে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

ইভটিজিং যৌননিপীড়ন কি আলাদাঃ 

যদিও ইভটিজিং যৌননিপীড়ন অপরাধগুলো নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়।প্রকৃতপক্ষে ইভটিজিং যৌননিপীড়ন আলাদা বিষয়। দুটি বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন ইভটিজিং করার শাস্তি কি? বিষয়টি দন্ডবিধি আইনের ৫০৯ ধারা যৌননিপীড়ন করার শাস্তি কি? বিষয়টি নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ১০ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে। ইভিটিজিং হল যদি কোন ব্যাক্তি এমন কোনভাবে কোন নারীকে ইঙ্গিত করে যা যৌনতা, নগ্নতা বা অশ্লীলতা প্রকাশ করে।অপরদিকে যৌননিপীড়ন হল কোন নারীর শরীর স্পর্শ করে যৌনতা, নগ্নতা বা অশ্লীলতা করা।নিচে আইন ধারানুযায়ী ইভটিজিং করার শাস্তি যৌননিপীড়ন করার শাস্তি উল্লেখ করা হল।

ইভটিজিং করার শাস্তিঃ

ইভটিজিং করার শাস্তি দন্ডবিধি আইনের ৫০৯ ধারা বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধারানুযায়ী যদি কোন ব্যাক্তি কোন নারীকে ইভটিজিং করে তাহলে উক্ত ব্যাক্তি ০১ (এক) বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন।

যৌননিপীড়ন করার শাস্তিঃ

নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ১০ ধারা মোতাবেক যদি কোন ব্যাক্তি যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য কোন অঙ্গ দ্বারা কোন নারীর অঙ্গ স্পর্শ করে বা শ্লীলতাহানি করে তাহলে উক্ত ব্যাক্তি ০৩ (তিন) বছর হইতে ১০ (দশ) বছরের মধ্যে যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।

(যদি কোন নারী ইভটিজিং বা যৌননিপীড়নের শিকার হয় তাহলে উক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত আইনে মামলা করা যাবে।আদালতে অপরাধ প্রমাণ হলে আইনে উল্লেখিত মেয়াদের কারাদন্ড হবে)

ইভটিজিংয়ের শিকার হলে কি করবেনঃ

০১। ইভটিজিংয়ের শিকার সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। যদি মামলা রুজু না হয় তাহলে থানায় জিডি করতে পারেন। তবে জিডি করলে অবশ্যই থানার অফিসারের স্বাক্ষর সিলমোহর, জিডি নং তারিখ সম্বলিত অভিযোগের ০১ কপি সংরক্ষণ করতে হবে। অভিযোগে জিডি নং তারিখ না থাকলে জিডি করার আইনগত মূল্য পাবেন না।

০২। থানায় মামলা না নিলে সংশ্লিষ্ট আদালতে ইভটিজিং এর অভিযোগ দিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ আমলে নিলে সিআর মামলা রুজু হবে।

০৩। ইভটিজিং কারীরা অনেক সময় প্রভাবশালী বা খুবই বখাটে হয়। তাই জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। আদালতে কিংবা থানায় মামলা করতে ব্যার্থ হলে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। এতে আপনি আইনগত মূল্য না পেলেও জীবন হানির মত ঘটনা না ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া ঘটনাটা জানাজানি হলে অপরাধীরাও আতংকে থাকবে।

ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয়ঃ

বর্তমান সমাজে ইভটিজিং একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে,স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,চাকরি ক্ষেত্রে রাস্তাঘাটে মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। অনেকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়। ইভটিজিং থেকে মুক্ত হতে হলে জনগনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় ইভটিজিং প্রতিরোধে কমিটি গঠন সভা সেমিনারে ই়ভটিজিং এর বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে হবে। তাছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের মাধ্যমে স্থানীয় থানা কর্তৃক  ইভটিজারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে হবে।


Comment As:

Comment (0)