যৌতুকের জন্য খুন

যৌতুকের জন্য খুন, গুরুতর আঘাত, সাধারণ আঘাত করার শাস্তি কি?

 

যৌতুকঃ

যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। যৌতুক প্রথা সমাজ থেকে নির্মূল করার জন্য নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ পাস করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সর্বশেষ ২০১৮ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। আজকে আমরা নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী যৌতুক কাকে বলে, যৌতুকের জন্য খুন, গুরুতর আঘাত, সাধারণ আঘাত করার শাস্তি কি আলোচনা করব। বিস্তারিত জানতে হলে পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

যৌতুক কাকে বলেঃ

কোন বর, বরের পিতামাতা বা তার পক্ষের কোন আত্মীয় যদি বিবাহের সময়, বিবাহের পূর্বে, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থির থাকাকালে,বিবাহ স্থির রাখার শর্তে বা বিবাহের পণ হিসেবে কনে পক্ষের নিকট  অর্থ, সামগ্রী বা অন্য কোন সম্পদ দাবি করে তখন থাকে যৌতুক বলে।

(নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ()() ধারা)

যৌতুক দাবি করা অপরাধঃ

কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা-মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য নারীর মৃত্যু ঘটান বা ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (griervous hurt) বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে নিম্নবর্ণিত শাস্তি ভোগ করবেন।

() যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটান তাহলে মৃত্যুদন্ডে অথবা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত হবে।

(নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ১১() ধারা অনুযায়ী)

() যৌতুকের জন্য মারাত্মক জখম (griervous hurt) যেমন চোখ অন্ধ, হাত কেটে ফেলা, এমন আঘাত যাহাতে ২১ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকে, কোন অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করার অপরাধে ০৫ (পাঁচ) হইতে ১০ (দশ) বছরের মধ্যে যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।

(নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ১১() ধারা অনুযায়ী)

() যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম (simple hurt) নীলাফুলা জখম করার অপরাধে ০১ (এক) হইতে ০৩(তিন) বছরের মধ্যে যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।

(নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০১৮) এর ১১() ধারা অনুযায়ী)

যদি কোন ব্যাক্তি যৌতুকের জন্য খুন, গুরুতর আঘাত বা সাধারণ আঘাত করার ফলে উপরোক্ত অপরাধে অপরাধী হয় তাহলে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে থানায় মামলা রুজু করা যাবে।


Comment As:

Comment (0)