পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, যোগ্যতা, ট্রেনিং ও বেতনভাতাদি বিস্তারিত।

 

বাংলাদেশ পুলিশঃ

পুলিশ বাহিনী একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণ জনগণের জান মালের নিরাপত্তা অপরাধীকে আইনে আওতায় আনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেই পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বেশিরভাগ সদস্য পুলিশ কনস্টেবল। তাই যারা পুলিশ কনস্টেবল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য পুলিশ কনস্টেবল  নিয়োগ, যোগ্যতা, ট্রেনিং বেতনভাতাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। তবে একটা বিষয় মনে রাখা উচিত অপরাধ প্রক্রিয়া পরিবর্তন, দেশের আইনশৃঙ্খলা শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অপর্যাপ্ত পুলিশ থাকার কারণে আমাদের দেশে এটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। তবুও দেশের সাধারণ জনগণের সেবা করার মনমানসিকতা দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক তরুণ তরুণী এই পেশায় আসতে চায়। আজকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যারা যোগদান করতে চায় কিংবা যারা পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সকল তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব।

পুলিশে নিয়োগঃ

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ০৩ (তিন) টি পদে পুলিশ সদস্য সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়।

০১। কনস্টেবল (constable)
০২। এসআই / সার্জেন্ট ( sub-inspector)
০৩। এএসপি (assistant Superintendent of police)

আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র কনস্টেবল পদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

০১। কনস্টেবল (constable)

যোগ্যতাঃ

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সর্বিনম্ন জিপিএ .৫।

বয়সঃ

সাধারণ কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখে ১৮-২০ বছর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ক্ষেত্রে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে।

উচ্চতাঃ

সাধারণ কোটার ক্ষেত্রে ফুট ইঞ্চি, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, উপজাতি নারী পুলিশ ফুট ইঞ্চি।

প্রশিক্ষণঃ

প্রতিটি পুলিশ কনস্টেবলকে ০৬ মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়।

বৈবাহিক অবস্থাঃ

অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে, তালাক প্রাপ্ত নহে।

প্রশিক্ষণ পদ্ধতিঃ

পুলিশ সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য প্রশিক্ষণ কালীন কঠোর পরিশ্রম করে শারিরীক মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৫ঃ০০ ঘটিকা হইতে রাত ১০ঃ০০ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

দায়িত্বঃ

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টহল, এস্কট ডিউটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ডিউটি করানো হয়।

পদোন্নতিঃ

পুলিশ বাহিনীতে নিজের দক্ষতা মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কনস্টেবল পদে যোগদান করার পর নায়েক, এএসআই, এসআই, পুলিশ পরিদর্শক এএসপি পদে পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব।

নিয়োগ পাওয়ার পদ্ধতিঃ

প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন পত্রিকা বা সামাজিক মাধ্যমে তা প্রচার করা হয়। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ স্ব স্ব জেলা পুলিশ লাইনে হাজির হতে হয়। সেখান থেকে শারিরীক মাপ, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা মেডিকেল পরীক্ষা করে চুড়ান্তভাবে লোক নিয়োগ করা হয়।

ছুটিঃ

প্রতিটি পুলিশ সদস্য বছরে যে কোন সময় গড় বেতনে অর্জিত ছুটি ৩০ দিন, নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিন পারমিশন লিভ ০৩ দিন ছুটি ভোগ করে থাকেন। সরকারি বন্ধ, শুক্রবার বা উৎসব অনুষ্ঠানে আলাদাভাবে ছুটি দেওয়া হয় না।

উৎসব ভাতাঃ

প্রতিটি পুলিশ সদস্য বছরে ০২ টি ঈদে ০২ টি উৎসবভাতা মূল বেতনের সমান পেয়ে থাকেন। যেমন মূল বেতন ৯০০০ টাকা হলে একটি উৎসবে ৯০০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া নববর্ষ ভাতা বছরে ০১ টি মূল বেতনের ২০% ভোগ করে থাকেন।

অন্যন্য সুবিধাঃ

প্রতিটি অবিবাহিত পুলিশ ০১ সদস্য রেশন বিবাহের পরে স্ত্রী সন্তানসহ সর্বোচ্চ ০৪ সদস্য বিশিষ্ট রেশন সামগ্রী পেয়ে থাকেন। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তাছাড়া দায়িত্ব কর্তব্য সঠিকভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্যন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বেতনভাতাদিঃ

প্রাথমিক মূল গ্রেড ৯০০০+ চিকিৎসা ভাতা ১৫০০+ মূল বেতনের ৪০% বাড়ি ভাড়া+ ঝুকিভাতা ১২০০ পেয়ে থাকেন ( প্রতিটি পুলিশ সদস্য যোগদান করার পর ১৬৫০০ টাকার কিছুটা কমবেশি বেতন পেয়ে থাকেন) প্রতি বছর মূল বেতনের % হারে যা সর্বসাকুল্যে ১২০০ টাকা কমবেশি বাড়ে।


Comment As:

Comment (0)