পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধ

পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি কি ? জেনে রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ !

 

পর্নোগ্রাফি কিঃ

যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি কারী কোন অশ্লীল ভিডিও, ছবি, চলচ্চিত্র, নৃত্যকে পর্নোগ্রাফি বলে। পর্নোগ্রাফির কারণে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। মারামারি, খুন ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটে। আজকের পোস্টে পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি কি এর বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২

বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর বিভিন্ন ধারা রয়েছে। যার মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা হানি, মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ, পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করে গণউপদ্রব সৃষ্টি, শিশুকে ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদনের মত ঘটনার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করার শাস্তিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করে, উৎপাদন করিবার জন্য অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করে চুক্তি বদ্ধ করে। নারী বা শিশুকে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদনে বাধ্য করে। বা নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দেখাইয়া পর্নোগ্রাফিতে অংশগ্রহণ করাইয়া তাহাদের জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ভিডিও বা ছবি ধারন করে তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। তার শাস্তি সর্বোচ্চ ০৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ,০০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হইবেন। (পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর () ধারা )

পর্ণোগ্রাফির মাধ্যমে কোন ব্যাক্তির মর্যাদাহানি করার শাস্তিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কোন ব্যক্তির সামাজিক বা ব্যাক্তি মর্যাদাহানি করে, ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্য কোন সুবিধা আদায় করে তা অপরাধ হবে। তাছাড়া জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ধারণকৃত পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন করাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। যদি কোন ব্যাক্তি উল্লেখিত অপরাধ করে তবে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ০৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ,০০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হইবেন। (পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর () ধারা )

ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করার শাস্তিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন পর্নোগ্রাফি সরবারাহ তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ০৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ,০০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হইবেন। (পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর () ধারা )

পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করে গণউপদ্রবের শাস্তিঃ

পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করে গণউপদ্রব সৃষ্টি করে  অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন তার শাস্তি সর্বোচ্চ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ,০০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হইবেন। (পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর () ধারা )

শিশুকে ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করার শাস্তিঃ

যদি কোন ব্যাক্তি শিশুকে ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করে তবে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ,০০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হইবেন। (পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর () ধারা )

পর্নোগ্রাফি আইন জেনে রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণঃ

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের আইন সম্পর্কে না জানার কারণে কোনটি অপরাধ কোনটি অপরাধ নয় তা সম্পর্কে সচেতনতার মারাত্মক অভাব রয়েছে। যার কারণে সমাজে অপরাধ বেড়ে যায়। অপরাধীরা অপরাধ করে পাড় পেয়ে যায়। অপরাধীদের সাজা হয় না, ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পায় না। পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শিকার হলেও ভুক্তভোগীরা পর্নোগ্রাফি অপরাধ সম্পর্কে না জানার কারণে থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন না। সেক্ষেত্রে যদি কোন ব্যাক্তি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধের শিকার হয় তাহলে থানায় বা আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।তাই পর্ণোগ্রাফি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Comment As:

Comment (0)