অফিসে নতুন

অফিসে নতুন! এই কাজগুলো ভুলেও করবেন না।

 

শিক্ষা জীবন শেষ করে আমাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়। কর্মজীবী মানুষদের অনেকে সফল হয় অনেকে আবার খারাপ সময় পার করে। আসলে আমাদের দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে কর্মজীবনে কি করতে হয় আবার কি করতে হবে না তা শিক্ষা দেওয়া হয় না।যার কারণে আমাদের কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সম্মুখীন হতে হয়। পেশা জীবনে পা রাখার প্রথমেই আমাদের মনে রাখা উচিত যে শিক্ষা জীবন আর পেশা জীবন এক নয়। পেশা জীবনে সফল হতে হলে আমাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। আজকে আমরা অফিসে নতুন যোগদান করার পর করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করব।অফিসে নতুন যোগদান করার পর যে কাজগুলো করবেন নাঃ

০১। ছুটি চাওয়াঃ

অফিস নতুন যোগদান করার পরেই ছুটি যাওয়া কথা বলবেন না। কারণ প্রথমেই অফিসে যোগদান করার পর সবাই আপনাকে আতশ কাচেঁর নিচে পরখ করে দেখবে। আপনি যদি অফিস বা কোম্পানীতে যোগদান করার পরেই ছুটির কথা বলেন তাহলে আপনার সম্পর্কে তারা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।

০২। নিজের দুর্বলতার কথা বলাঃ

অফিসে যোগদান করে সহকর্মীদের সাথে আলাপকালে কোন সময়ই নিজের দুর্বলতার কথা আলোচনা করবেন না। কারন যাদের নিকট আপনি দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করবেন তারাই এক সময় আপনার দুর্বলতা নিয়ে মজা করবে। সে সময় দুর্বলতার কথা প্রকাশ করার জন্য আপনাকে অনুতপ্ত হতে হবে।

০৩। অতিরিক্ত কথা বলাঃ

আজকের পৃথিবীকে ভালো অনেক ব্যাক্তা পাওয়া যায় কিন্তু ভালো শ্রোতা পাওয়া যায় না। আপনি যদি অফিসে খারাপ হতে চান তাহলে বেশি কথা বলতে পারেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত কথা বলা ত্যাগ করে কম কথা বললে সহজেই সবার সাথে মিশতে পারবেন এবং সবার সহযোগিতা পাবেন।

০৪। সঠিক সময়ে নিয়মিত অফিস করাঃ

অফিসে নতুন যোগদান করে নিয়মিত সঠিক সময়ে অফিসে আসবেন। কোন কারণে যদি অফিসে যেতে দেরী হয় তাহলে অফিসের কোন সহকর্মী বা বসকে জানাতে পারেন। তবে প্রথম কয়েকদিন সঠিক সময়ে অফিসে আসা খুব ভালো। আপনি যেহেতু নতুন তাই সবাই আপনার সময় জ্ঞান আছে কিনা তা ভালো করে খেয়াল করবে।

০৫। সহকর্মীদের সমালোচনা করাঃ

কোন সহকর্মীকে নিয়ে অন্য সহকর্মীর কাছে সমালোচনা করবেন না। যার নিকট সমালোচনা করবেন সেই আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন। আর লক্ষ্য করে দেখবেন যার সমালোচনা আপনি করছেন তার সাথে এমনিতেই খারাপ সম্পর্ক তৈরী হবে।

০৬। বসের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তাধারা পোষণ করাঃ

আপনি যেহেতু কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে নিশ্চয়ই আপনার বস বা উর্দ্ধতন অফিসার থাকবে। আর যেহেতু আপনি তাদের অধীনে চাকরী করেছেন তাই তাদের তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তাধারা পোষণ না করাই ভালো।

০৭। অতিরিক্ত তেলবাজী করাঃ

অফিসিয়াল কাজ করার কারণে হয়ত অফিসের অনেক কাজ করতে হবে। কিন্তু কোন ক্রমেই অতিরিক্ত আগ্রহ নিয়ে আগ বাড়িয়ে কোন কিছু করতে যাবেন না। কারণ হয়ত সাময়িক ভাবে আপনি ভালো থাকতে পারেন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আপনি ভালো থাকতে পারবেন না। আমাদের দেশে অফিস আদালতে এমন অনেক লোক আছে যারা অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া জন্য এমন অনেক কাজ করে যাতে ব্যাক্তিত্ব থাকে না। এমতাবস্থায় অতিরিক্ত তেলবাজী করতে গেলে অনেক সময় আপনাকে দিয়ে ব্যাক্তিগত কাজ করাতে পারে। যা আপনি হয়ত মেনে নিতে নাও পারে।তাই অফিসিয়াল কাজের জন্য যতটুকু কাজ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই করবেন্ তবে কোন সমস্যা থাকলে সহযোগিতা অবশ্যই করবেন। এতে আপনার ব্যাক্তিত্বও বাড়বে। তাছাড়া অফিসে অতিরিক্ত কাজ থাকলে দায়িত্বশীলতার সাথে শেষ করতে পারেন।

০৮। অতিরিক্ত কথা বলাঃ

অফিসে নতুন যোগদান করার সময় আগে পড়ে কিংবা কোন সময়ই অতিরিক্ত কথা না বলাই ভালো। আপনাকে মনে রাখতে হবে এটা বাড়ি কিংবা রেস্তোরা নয়। এটা আপনার কর্মস্থল। তাই এখানে প্রয়োজনের অধিক কথা না বলা ভালো। তাছাড়া একটা কথা মনে রাখবে আজকে পৃথিবীতে কথা বলার মানুষ রয়েছে কিন্তু শুনার মানুষ নাই। আপনি যদি অফিসে সকলের মধ্যমণি হতে চান তাহলে অবশ্যই কথা কম বলে ভালো শ্রুতা হন।

০৯। সমস্যা এড়িয়ে চলাঃ

অফিসিয়াল কাজকর্মে কোন সময় দায়িত্ব এড়িয়ে যাবেন না। কারণ নতুন দায়িত্ব না নিলে নতুন কিছু জানতে পারবেন না। আর আপনি কিছূ জানতে না পারলে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন না।

১০। সহকর্মীদের সাথে বিরোধঃ

অনেকেই অফিসে নতুন যোগদান করার পর সহকর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি করে যা মোটেই ঠিক নয়। আপনি যেহেতু নতুন যোগদান করেছেন তাই আপনার সম্পর্কে জানার জন্য বা আপনি মানুষ হিসেবে কেমন তা বিভিন্ন ভাবে যাচাই করতে পারেন। দেখবেন প্রথমে আপনাকে যারা খারাপ কথা বলবে তারাই আপনার ভালো বন্ধু হয়ে গেছে। তাই কেউ প্রথমদিকে খারাপ ব্যবহার করলেও খুব তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো।


Comment As:

Comment (0)